দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে কেন জিততে হবে এবং কেন জিতবে?

দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে কেন জিততে হবে এবং কেন জিতবে?

বাংলাদেশের রাজনীতির সুন্দরতম চলমান ধারা বজায় থাকার জন্য আসছে গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে জিততে হবে আর নির্বাচনের সকল অনুষঙ্গ ঠিকঠাক থাকলে আওয়ামীলীগ প্রার্থীরই বিজয় হবে। এটি সাধারণ প্রত্যাশার কথা। এই প্রত্যাশারই প্রতিফলন নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যাবে যদি নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় গুলো আওয়ামীলীগ কাজে লাগাতে পারে যথাযথ ভাবে।

একটি যথার্থ প্রচার কাজই পারে আওয়ামীলীগকে সফলতা এনে দিতে। আর এটিই এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। একটি ভালো আবহও তৈরি হতে পারে এই নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিজয়ের মাধ্যমে, যা আসছে সাধারণ নির্বাচনে যথার্থই কাজে আসবে বলে বিশ্বাস।

পরাজিত হলে তার কিছুটা হলেও খারাপ প্রভাব পড়তে পারে আগামী সাধারণ নির্বাচনে। আর যদি দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী বিজয়ী হয় তাঁর সুবাতাস আসছে সাধারণ নির্বাচনে কাজে লাগাতে পারবে সহজে। এটি একটি সহজ সত্য যা অস্বীকার করবার উপায় নাই। এই রূপ যদি হয় তা হবে আওয়ামীলীগের জন্য মঙ্গলকর, দেশের জন্যতো বটে।

 

city corporation

 

বিজয়ের জন্য আওয়ামীলীগের এই মুহূর্তের করণীয়

গাজীপুর ও খুলনা, এই দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীকে জিততে হলে কিছু কাজ সঠিক ভাবে করতে হবে, আর কিছু কাজ বা ভুল কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

অভ্যন্তরীণ বিরোধ দুর করতে হবে প্রথমে

আওয়ামীলীগের প্রথম এবং প্রধানতম কাজ হবে দলের ভিতরকার বিরোধ নিষ্পত্তি করা। বিগত অনেক নির্বাচনে এই বিভক্তি দলকে পরাজয়ের হতাশা এনে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নিশ্চয়ই এবিষয়ে কাজ করছেন। সকলকে বুঝতে হবে এই বিরোধ চলমান থাকলে প্রতিপক্ষ সুযোগ নিবে যা কারো জন্য মঙ্গলকর হবে না।

অতি-আত্মবিশ্বাস ত্যাগ করতে হবে

আওয়ামীলীগ বরাবরই আত্মবিশ্বাসী দল। এর আত্মবিশ্বাসই দলকে নিয়ে গেছে অনেক দূর, এনে দিয়েছে আকাশচুম্বী সফলতা। পাশাপাশি এটিও সত্য যে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারণে অতীতে এবং নিকট অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে জনগণ নিশ্চিত জয়ের ক্ষেত্রেও পরাজয় প্রত্যক্ষ করেছে। আর এর অন্যতম কারণ ছিল দলীয় নেতা কর্মীদের জয়ের ব্যাপারে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস।

তাই নির্বাচনের কাজে, নির্বাচন পরিচালনায় এবং নির্বাচনী হিসেবনিকেশের ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় আত্মবিশ্বাস প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে হবে এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ করে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে প্রতিপক্ষকে খাটো করে দেখা বা দুর্বল ভেবে আত্মঘাতী হওয়া যাবেনা। শুধু বোকারাই একই ভুল বার বার করে।

প্রচার কাজে ভুল করা যাবেনা

আওয়ামীলীগ একটি পরিপক্ক দল। নির্বাচনী প্রচার কৌশল সম্পর্কে এই দলের নেতাদের নতুন করে পরামর্শ দেয়ার কিছু নেই। দলের দক্ষ নেতৃত্বই নির্বাচনের প্রচার কৌশল নির্ধারণ করেছেন। ইতিমধ্যে নির্বাচনী ইশতেহারও জনগণের নিকট তুলে ধরা হয়েছে। তাই এই ইশতেহার নিয়ে যথার্থই ভোটারদের নিকট যেতে হবে।

বিগত কিছু নির্বাচনে প্রচারণার ক্ষেত্রে অতি-আনুষ্ঠানিকতার বাড়া-বাড়ি জনগণ লক্ষ্য করেছে। কেন্দ্র থেকে সম্মানিত নেতৃবৃন্দ গিয়েছেন দল বেঁধে প্রচারণার জন্য আর স্থানীয় নেতারা ব্যাস্ত হয়ে পড়েছেন তাদের নিয়ে, তাদের আদর-আপ্যায়ন, তাদের মনোযোগ আকর্ষণে এবং ছবি তোলায় যা নির্বাচনী প্রচারকে দারুনভাবে ব্যাহত করেছে। ফলে ভোটারদের কাছে পৌঁছানো যায়নি যথাযথ ভাবে। তাই সম্মানিত স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের তা লক্ষ্য রাখতে হবে।

সঠিক বার্তা নিয়ে জনগণের কাছে পৌঁছানো

এটি সর্বজন স্বীকৃত যে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। নাগরিক জীবনের সকল জায়গায় অর্থপূর্ণ উন্নয়ন হয়েছে। আর সুদূর প্রসারী উন্নয়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এই বিষয় সঠিক ভাবে ভোটারের কাছে তূলে ধরতে হবে।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে দেশ সত্যিকার অর্থে এগিয়ে যাচ্ছে তা জনগণকে বোঝাতে হবে। উন্নয়নের পথে সরকারের নেয়া পদক্ষেপ গুলো ভোটারদের সামনে পরিষ্কার করতে হবে। সাথে সাথে তুলে ধরতে হবে কেমন করে বি. এন. পি. সরকারের আমলে উন্নয়ন পিছিয়ে গেছে।

এই বিষয় গুলো অতি সাধারণ এবং নেতা-কর্মীদের প্রচারেকার্য্যে সেগুলো উঠে আসবেই। তবুও এগুলোর উপর জোর দিতে হবে এই জন্য যে এখানে প্রতিপক্ষের অপপ্রচারকে প্রতিহত করতে হবে। কারণ এটা সত্য যে প্রতিপক্ষ মিথ্যা প্রচারে লিপ্ত থাকবে। তাই, তারা যেন সাধারণ মানুষকে আর বোকা বানাতে না পারে সে জন্যই সঠিক বার্তা সঠিক ভাবে ভোটারদের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে এই প্রতিপক্ষ অপপ্রচারের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ওস্তাদ। এই সুযোগটাই তাদের বারবার দেয়া যাবেনা।

দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কেন জিততে হবে

এটি অত্যন্ত পরিষ্কার যে বহুবিদ কারণে আওয়ামিলীগ প্রার্থীকে আসছে দুই সিটি কর্পোরেশনে জিততে হবে। তার অন্যতম হল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তির প্রয়োজনীয়তা এবং উন্নয়ণের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা।

সুদুর প্রসারি উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে

বাংলাদেশ ইতিমধ্যে বিশ্বদরবারে যে সম্মানের জায়গাটি দখল করতে সক্ষম হয়েছে সেটি ধরে রাখতে হবে দেশেরই মঙ্গলের জন্য। এই উন্নয়নতো মিথ্যার রাজনীতি দিয়ে সম্ভব হয়নি, বি এন পি-জামাত শক্তি দিয়ে সাধিত হয়নি। শুধু নন্দিত জননেত্রি শেখ হাসিনার ধারাই এটি সম্ভব হয়েছিল। তাঁর দক্ষ নেতৃত্বেই এই উন্নয়ন সুচিত হয়েছিল এবং উন্নয়ণের মহাসোপানে উন্নিত হয়েছে বাংলাদেশ যা আজ বিশ্বদরবারে প্রসংশিত। শেখ হাসিনা কর্তৃক নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনই এই উন্নয়ন সম্ভব করেছে।

আমাদের জন্য দুঃখজনক হলেও সত্য যে এটি আজো কিছু জনগণকে বুঝাবার অবকাশ রয়ে গেছে। কারণ পরাজিত শক্তি বসে নেই, তারা জনগণকে আজো ভুল বুঝাচ্ছে। তাই সুদুর প্রসারি উন্নয়ণের ধারা বজায় রাখতে ভুলোবোঝা মানুষ গুলোকে বুঝাতে সক্ষম হতে হবে, যে উন্নয়ণ সম্প্রতি বাংলাদেশে সাধিত হয়েছে তা শুধু শেখ হাসিনার দূরদর্শী চিন্তার ফল। এটাই আজকের দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের জন্য, আর তা করতে হবে দক্ষতার সাথে।

প্রতিদ্বন্ধি শিবিরে অবাঞ্ছিত উচ্ছ্বাসের সুযোগ না দিতে

দুঃখের বিষয় যে আওয়ামীলীগের প্রতিদ্বদন্ধি শক্তিই মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির দোসররা যারা বাংলাদেশের গৌরবের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে, বিকৃত করেছে এবং করার অপচেষ্টায় আজো লিপ্ত আছে। এদেশের সাধারণ মানুষকে ধোকা দিয়েছে, ভুল বুঝিয়েছে, মিথ্যা ইতিহাস সৃষ্টির চেষ্টা করেছে।

এদেশের মানুষের বড় একটি অংশের মধ্যেও সে ভুল ইতিহাসের চর্চা করাতে সক্ষম হয়েছে। তবে মানুষের ঐ অংশের মধ্যেও ভুল ভাংতে শুরু করেছে। আর এই প্রক্রিয়াকে যথাযথ ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের নির্বাচন গুলোতে আওয়ামীলীগ ও অন্যান্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল গুলোর ঐক্য ও বিজয় প্রয়োজন।

আর যদি এধরণের নির্বাচন গুলোতে অপশক্তির বিজয় হয় তা হলে তাদের মধ্যে অবাঞ্ছিত উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হতে পারে। আর সেটি কিছুটা হলেও আসছে সাধারণ নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মিথ্যা রাজনীতির লালনকারীদের সে সুযোগও না দেয়া উচিত। যদি তা না হয় সত্যের রাজনীতি অযাচিত বাধার সম্মুখীন হবে যা কারো কাম্য নয়।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনকারী শক্তির ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন এই জন্য যে বাংলাদেশ সৃষ্টের পর থেকে পরাজিত শক্তি যে মিথ্যার রাজনীতি করে আসছে তা থেকে দেশকে মুক্ত করা। কখনো কখনো ইতিহাসের সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য ৪০-৫০ বছর সময়ের প্রয়োজন হয়। লক্ষ্য করবেন বাংলাদেশে আজ মিথ্যার বেসাতী দুর হতে শুরু করেছে, ইতিহাসের প্রকৃত সত্য প্রতিষ্ঠা হতে শুরু করেছে। তাই এই প্রক্রিয়াকে অব্যাহত থাকার সুযোগ দিতে হবে। আর সে জন্য এই দুই সিট কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিজয়ের প্রভাবই যেন শুধু আগামী সাধারণ নির্বাচনে পড়ে সেটা খেয়াল রাখতে হবে নেতাকর্মীদের।

জাতীয় নির্বাচনের জন্য জনগণের বিশ্বাস ধরে রাখতে

এই বছরের শেষের দিকে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন। সবার লক্ষ্য এই নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক-বাহক রাজনৈতিক দলই বিজয়ী হউক। উন্নত দেশে পরিণত হয়ার পথে এগিয়ে যাওয়া এবং লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্ব অত্যন্ত প্রয়োজন।

এই ক্ষেত্রে সামনে হতে যাওয়া দুই সিটি কর্পোরেশন ফলাফলের ভূমিকা থাকবে। আসছে জাতীয় নির্বাচনে দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিজয় কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আওয়ামীলীগের এই প্রভাবটা কাজে লাগানো উচিত। আর জনগণের বিশ্বাসটাও বহুলাংশে বেড়ে যাবে স্থানীয় নির্বাচনে বিজয়ের ফলে, যেহেতু এটি সামনের সাধারণ নির্বাচনের আগে হয়তো সবচেয়ে কাছের স্থানীয় সরকার নির্বাচন।

কেন দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী বিজয়ী হবে

গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার হাজারো কারণ রয়েছে।
সরকারের ধারাবাহিক সফলতা

আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকারের উন্নয়ন সফলতা এর সবচেয়ে বড় কারণ। এই সরকারের উন্নয়ণ কার্য্যক্রম আজ শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত, দেশবাসীর কাছে দৃশ্যমান, বিশ্বব্যাপী প্রশংসনীয়। এই সফলতাকে ভোটারদের কাছে যথার্থ ভাবে তুলে ধরতে পারলে স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে আওয়ামীলীগের জন্য বিজয়টা কঠিন হওয়ার কথা নয়।

সর্বোপরি, আসছে নির্বাচন গুলোতে আওয়ামীলীগের প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়া প্রয়োজন এই জাতিকে দেশের সঠিক ইতিহাস উপহার দেয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্য, চলমান উন্নয়ণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য, দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করার জন্য এবং দেশকে জঙ্গিবাদ মুক্ত রাখার জন্য। কারণ, ইতিমধ্যে এটি পরিষ্কার যে বাংলাদেশের প্রকৃত উন্নয়ণের চাবি শেখ হাসিনার হাতে। তবে শেখ হাসিনার সমস্ত উন্নয়ণের ধারাবাহিকতা নির্ভর করবে আওয়ামীলীগের কর্মকাণ্ডের উপর। নেতাকর্মীদেরকে তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষকে বুঝাতে সক্ষম হতে হবে যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বই দেশকে সফলতার স্বর্ণশিখরে নিয়ে যেতে পারে।