সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটি উক্তি ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর বিজয়

সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটি উক্তি ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর বিজয়

বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও জননেত্রী শেখ হাসিনা সুযোগ্য উত্তরসুরী তারুণ প্রজন্মের ভরসার প্রতীক সজীব ওয়াজেদ জয় প্রায়ই বলে থাকেন-“ঐক্য বদ্ধ থাকলে আওয়ামীলীগকে কেউ হারাতে পারেনা”। কথাটি আবার সত্য প্রমাণিত হলো। সত্য প্রমাণিত হলো খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে।একটি ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই এই বিজয় সম্ভব করতে পেরেছিল। বিগত দিন গুলোতেও এটা আমরা দেখেছি অনেকবার। তাই আসছে দিন গুলোতেও সকল ভালো কাজের জন্য আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের ও  বদ্ধ থাকা প্রয়োজন।

 

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন

কিন্তু, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে বিভিন্ন নির্বাচনের প্রাককালে আওয়ামিলীগের বিভিন্ন আঞ্চলিক নেতৃত্বের মধ্যে আমরা বিভাজন দেখেছি। আর এই বিভাজনের ফলস্বরূপ আওয়ামীলীগকে নির্বাচনে হারতেও হয়েছিল অনেকবার, অনেক জায়গায়। তাই এরূপ বাস্তবতাকে মাথায় রেখে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বকে সজীব ওয়াজেদ জয়ের গুরত্বপূর্ণ এই উক্তিটি মনে ধারন করতে হবে এবং কাজে লাগাতে হবে।

১৫ই মে ২০১৮ ইং অনুষ্ঠিত হয় গুরুত্বপূর্ণ খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচন। নান দিক থেকে এই নির্বাচন গুরত্বপূর্ণ ছিল। জাতীয় নির্বাচনের আগে এই নির্বাচন যেমন আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক অবস্থান যাচাই করার ক্ষেত্রে অনুষঙ্গ ছিল (যদিও বর্তমানে আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক অবস্থান যথেষ্ট ভালো), তেমনি নির্বাচন কমিশনের জন্যও ছিল তাদের সক্ষমতা প্রকাশের ক্ষেত্র। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ দুটোই দেখতে পেয়েছে। নির্বাচন কমিশন যেমন একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেতে পেরেছে, আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক দৃঢ়তারও পরিচয় পাওয়া গেছে।
ঐক্যবদ্ধ আওয়ামীলীগ ও খুলনায় বিজয়

এবারের নির্বাচনের আগে খুলনা আওয়ামীলীগ অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে ঐক্যবদ্ধ ছিল। আর খুলনা সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামীলীগ প্রার্থির বিজয়ের সবচেয়ে বড় কারণ হলো দলের ঐক্য। এই বিজয়ের পিছনে অন্য অনেক গুলো গুরত্বপূর্ণ কারণ আছে। সেগুলোও আমি এখানে উল্লেখ করতে চাই। তার আগে বলতে চাই দলে ঐক্যটা কোথায় ছিল।

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এবার আওয়ামীলীগের ঐক্য ছিল সর্বক্ষেত্রে। প্রথমতঃ স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে কোনরূপ বিভাজন ছিলনা। সব নেতাই তাদের কর্মীবাহিনী নিয়ে আওয়ামীলীগ প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের জন্য কাজ করেছেন। নেতাকর্মীদের মধ্যে আওয়ামীলীগ প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য বিষণ রকমের একটা তাগিদ লক্ষ্য করা গেছে।

স্থানীয় আওয়ামীলীগের মধ্যে ঐক্যের মনোভাব তৈরি হওয়ার ক্ষেত্রে অন্য যে বিষয়টি কাজ করেছিলো তা হলো কেন্দ্রের নির্দেশনাকে স্থানীয় নেতারা যথাযথ ভাবে অনুসরণ করেছেন। আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঠিক ভাবে মেনে চলা যে, দলের জন্য অনেক বড় সফলতা বয়ে আনতে পারে তা এই নির্বাচনের ফলাফল থেকে আবার শিক্ষা নেয়া উচিত।

ব্যাক্তিগত চাওয়া-পাওয়াকে বিসর্জন দিয়ে দলের ভালোর জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকাযে কত প্রয়োজন তা যেমন জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মকান্ড থেকে অনুধাবন করা যায়, তেমনি খুলনার এবারের নির্বাচন থেকেও অনুধাবন করা যায়। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামীলীগ যে ১/১১’র অনেক বড় দুর্যোগ সামাল দিয়েছিলো তা নিশ্চয় সবার মনে আছে। আর এই কাজটিই আওয়ামীলীগ নেতৃত্ব আবার করতে পেরেছিল ২০১৮ সালের খুলনার নগরপিতা নির্বাচনে।

সে দিক বিবেচনায় শেখ হাসিনা তনয় ও জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার সজীব ওয়াজেদ জয়ের কথাটি “ঐক্য বদ্ধ থাকলে আওয়ামীলীগকে কেউ হারাতে পারেনা” প্রতিদান যোগ্য।

প্রচারকার্য্যে পরিমিতিবোধ ও ঐক্য এবং বিজয় 

আমি এর আগের একটি লিখায় বলেছিলাম “বিগত কিছু নির্বাচনে প্রচারণার ক্ষেত্রে অতি-আনুষ্ঠানিকতার বাড়া-বাড়ি জনগণ লক্ষ্য করেছে। কেন্দ্র থেকে সম্মানিত নেতৃবৃন্দ গিয়েছেন দল বেঁধে প্রচারণার জন্য আর স্থানীয় নেতারা ব্যাস্ত হয়ে পড়েছেন তাদের নিয়ে, তাদের আদর-আপ্যায়ন, তাদের মনোযোগ আকর্ষণে এবং ছবি তোলায়, যা নির্বাচনী প্রচারকাজকে দারুনভাবে ব্যাহত করেছে। ফলে ভোটারদের কাছে পৌঁছানো যায়নি যথাযথ ভাবে।“

ভালোলাগার বিষয় হলো এবারের নির্বাচনে তা ছিলনা। নিশ্চয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে প্রচারণার ক্ষেত্রে অযাচিত এবং অপ্রয়োজনীয় কর্মকান্ডের বাড়াবাড়ি যাতে না থাকে সে বিষয়ে নির্দেশনা ছিল। তাই প্রচারকার্য্যটি হয়েছিল যথাযথ ভাবে। আর এই প্রচারকাজেও ছিলো দৃঢ় ঐক্য। ফলে ঐক্যবদ্ধ ও সময়োপযোগী প্রচারকার্য্য এই নির্বাচনে তালুকদার আব্দুল খালেকের বিজয়ের অন্যতম একটি কারণ।

সমমনা গোষ্টিতে ঐক্য-বিজয়ের সহায়ক শক্তি

সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত নয়, অথচ আওয়ামীলীগ ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির সহায়ক বিভিন্ন সামাজিক ও পেশজীবী সংগঠন গুলো এবারের খুলনার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর পক্ষে কিছুটা সক্রিয় ছিল।
যে কোন নির্বাচনে বিজয়ের জন্য এই শক্তি গুলোর ভূমিকা জোরাল। আর এটা আওয়ামীলীগের নীতি নির্ধারকরা সঠিক ভাবে অনুভব করেছিল এবং সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন গুলোকেও ঐক্যবদ্ধ রেখে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর পক্ষে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছিল। এই ক্ষেত্রেও আওয়ামীলীগ ঐক্যের সুফল পেয়েছে এবং ফল হিসেবে বিজয় নিশ্চিত করতে পেরেছে।

ঐক্যবদ্ধ ভাবে মিথ্যাচারকে প্রতিহত করা

সাম্প্রতিক খুলনার নগর নির্বাচনে আওয়ামীলীগ অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ জোরালভাবে ও ঐক্যবদ্ধ ভাবে প্রতিহত করতে পেরেছিল। আর তা হলো অপপ্রচার। অপপ্রচার করা ও মিথ্যা গুজব ছড়ানো বি. এন. পি. ও জামাত শক্তির পুরনো অভ্যাস, এটি তাদের রাজনীতির একটি অপকৌশল। সবসময় তারা এটি করে এসেছে, নির্বাচন ঘনিয়ে এলে তাদের এই অপপ্রচার আরো বেড়ে যায়।

বর্তমানে তাদের অপপ্রচারে যুক্ত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। প্রচার ও অপপ্রচারের জন্য এটি একটি শক্তিশালী মাধ্যম। বি. এন. পি. ও জামাত জোট এই শক্তিকে কাজে লাগাতে পটু। তবে খুলনার নির্বাচনে আওয়ামীলীগ তাদের অপপ্রচার ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছিল। তাই অপশক্তির গুজব ও অপপ্রচারকে প্রতিহত করার জন্য আওয়ামীলীগকে সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে।

এক্ষেত্রে আওয়ামীলীগকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় থাকতে হবে এবং গুজব ও অপপ্রচারের সঠিক জবাব দিতে হবে এবং তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আর এই কাজটি খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে করা হয়েছিল অনেকাংশে।

আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়ণমূলক কর্মকান্ড ও দলীয় ঐক্য

খুলনার নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর বিজয়ের অপর প্রধান কারণ যে আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পাহাড়সম উন্নয়ণ কর্মকান্ড তাতো বলার অপেক্ষা রাখেনা। তাই আসছে নির্বাচন গুলোতে আওয়ামীলীগের বিজয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য মুলতঃ দুটি বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। তার একটি হলো সকল ক্ষেত্রে সরকারের উন্নয়ণ কর্মকান্ড তুলে ধরা, অপরটি হলো দলের সর্বোস্তরে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকা। ঐক্যবদ্ধ থাকার ক্ষেত্রে দলের কেন্দ্রীয় ও শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে বিনা বাক্যে। এই দুটি বিষয়ের সমন্বয় সাধন করা সম্ভব হলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়েই আওয়ামীলীগ নিশ্চিত বিজয় লাভ করবে বলে আমি মনে করি।